• ২০২৩ ফেব্রুয়ারী ০৪, শনিবার, ১৪২৯ মাঘ ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ৯:৪৯ অপরাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২৩ ফেব্রুয়ারী ০৪, শনিবার, ১৪২৯ মাঘ ২২

ঢাকায় পাতাল রেল: নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ২৬ জানুয়ারি

  • প্রকাশিত ৯:৩৭ অপরাহ্ন শনিবার, জানুয়ারী ২১, ২০২৩
ঢাকায় পাতাল রেল: নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ২৬ জানুয়ারি
সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দেশের প্রথম পাতাল রেলের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক জানান, এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এছাড়া রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জের এমআরটি লাইন-১ এর ডিপোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই মেট্রোলাইনের হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশ মাটির নিচ দিয়ে যাবে এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত অংশ উড়ালপথে যাবে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের মানুষের চলাচলের জন্য দেশের প্রথম পাতালরেলের ডিপো নির্মাণ করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চিতলগঞ্জে। এই প্রকল্পটি ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন-১ বা এমআরটি লাইন-১ নামে পরিচিত।’

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পূর্বাচলে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি খালি প্লটে লাইন-১ পাতালরেলের শুভসূচনা করবেন। তিনি একটি ফলক উন্মোচন করবেন। এর মধ্য দিয়ে লাইন-১-এর ডিপোর কাজ শুরু হবে।

এছাড়া পিতলগঞ্জের ডিপো নির্মাণ এলাকায় জায়গার সংকুলান হবে না তাই এখানে করা হবে।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, মেট্রোরেলের পর এখন পাতালরেলের যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ।

এছাড়া ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম পাতাল রেলের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

সচিব বলেন, হযরত শাহজাহাল (রহ.) বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশ। এটি মাটির নিচ দিয়ে যাবে। আর নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার রেললাইন উড়ালপথে যাবে।

তিনি বলেন, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের দুইটি লাইন থাকবে। হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে মাটির নিচ দিয়ে কমলাপুর পর্যন্ত এই পাতাল পথে রেলের স্টেশন থাকবে ১২টি।

স্টেশনগুলোর নির্ধারিত জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে-কমলাপুর, রাজারবাগ, মালিবাগ, রামপুরা, আফতাবনগর, বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, নতুন বাজার, নর্দা, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও বিমানবন্দর।

আর এমআরটি লাইন-১ এর অপর অংশ নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথে। স্টেশন থাকবে ৭টি।

সেগুলোর নির্ধারিত জায়গা হলো-জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া, মস্তুল, শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, পূর্বাচল সেন্ট্রাল, পূর্বাচল পূর্ব ও পূর্বাচল টার্মিনাল।

এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বাকি ১২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা খরচ করবে বাংলাদেশ সরকার।

এছাড়া ২০২৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব আরও বলেন, এমআরটি লাইন-১ চালু হলে এই রুটে প্রতিদিন আট লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগবে ২৪ দশমিক ৩০ মিনিট। আর নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল যেতে সময় লাগবে ২০ দশমিক ৩৫ মিনিট।

এমআরটি লাইন-১ এর প্রতিটি পাতাল স্টেশন হবে তিনতলা। টিকিট কাউন্টার ও অন্যান্য সুবিধা থাকবে প্রথম বেজমেন্টে। প্ল্যাটফরম থাকবে দ্বিতীয় বেজমেন্টে। আর উড়াল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার এবং প্ল্যাটফরম থাকবে তিনতলায়।

এছাড়া যাত্রীদের চলাচলের জন্য উড়াল ও পাতাল-দুই পথের স্টেশনেই থাকবে লিফট, সিঁড়ি ও এস্কেলেটর সুবিধা।

এদিকে স্টেশনগুলোয় পর্যাপ্ত বাতাস ও অক্সিজেনের প্রবাহ ঠিক রাখতে থাকবে অতিরিক্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মেট্রোরেলের লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণ হবে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জে। এই কাজের জন্য জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড ও দেশিয় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

পুরো প্রকল্পের কাজ ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে প্যাকেজে সিপি-১-এর আওতায় ডিপো এলাকায় ভূমি উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

আরও জানা যায়, এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণ কাজ তত্ত্বাবধানের জন্য ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। এটির নির্মাণ কাজ মোট ১২টি প্যাকেজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর ডিপোর ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত প্যাকেজ সিপি-১ এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

এমআরটি-১-এর ডিপো ও ডিপো এক্সেস করিডোর নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ ও ব্রাহ্মণখালী মৌজার ১২ দশমিক ৯৭২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১৪০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে। ২৮ নভেম্বর পিতলগঞ্জ মৌজায় ৩১ শতাংশ ভূমির দখল নেয়া হয়েছে। শিগগিরই অবশিষ্ট ভূমির দখল নেয়া হবে।

এমআরটি-১ এর রিসিভিং সাব স্টেশন-২ এবং নর্দ্দা, নতুন বাজার ও উত্তর বাড্ডার তিনটি পাতাল স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন নির্মাণের জন্য ভুমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।


সর্বশেষ