• ২০২৩ ফেব্রুয়ারী ০৪, শনিবার, ১৪২৯ মাঘ ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ৪:০৩ অপরাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২৩ ফেব্রুয়ারী ০৪, শনিবার, ১৪২৯ মাঘ ২২

‘কলিজার টুকরার’ শরীরের একটা টুকরাও যদি ভেসে আসে, সে আশায় সাগরপাড়ে অপেক্ষা

  • প্রকাশিত ১০:২৮ অপরাহ্ন রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২
‘কলিজার টুকরার’ শরীরের একটা টুকরাও যদি ভেসে আসে, সে আশায় সাগরপাড়ে অপেক্ষা
সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

আলিনা নিখোঁজ হলে ১০ দিন পর্যন্ত মা–বাবা অপেক্ষায় ছিলেন, এই বোধ হয় মেয়ে ঘরে ফিরল। কিন্তু মা–বাবা এখন জেনে গেছেন তাঁদের কলিজার টুকরা মেয়েকে কয়েক টুকরা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন মেয়েটির স্বজনেরা সাগরপাড়ে ছুটছেন, যদি তার শরীরের কোনো টুকরা, জামা, জুতা, হিজাব বা অন্য কিছু পাওয়া যায়, সে আশায়। আলিনার বাবা মো. সোহেল রানা মুঠোফোনে বললেন, ‘কলিজার শরীরের একটা টুকরাও যদি পাইতাম, দাফনটা তো করতে পারতাম। কলিজার তো কিছুই পাইলাম না।’

আজ রোববার বিকেলে আলিনা ইসলাম আয়াতের বাবা সোহেল রানার সঙ্গে কথা হয়। বললেন, সাগরপাড়ে গিয়ে তাঁরা আলিনার যদি কোনো আলামত পাওয়া যায়, তাই খুঁজছেন। নিজে থেকেই বললেন, ‘আমার মেয়েটা আমার সঙ্গে দোকানে গিয়ে লুকোচুরি খেলত। ঘটনার দিনও দোকানে বসে তার মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে। মেয়েটা আচার খেতে চায়। মেয়ের তো আচার খাওয়া শেষ, আর খাবে না।’

১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা ওয়াজ মুন্সিবাড়ি এলাকার সোহেল রানার মেয়ে আলিনা বাসার পাশে একটি মক্তবে বিকেলে পড়তে যায়। তারপর জানা যায়, আলিনা মক্তবে যায়নি। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর ২৫ নভেম্বর আলিনার পরিবার জানতে পারে, পাঁচ বছর বয়সী আলিনা অপহরণ ও হত্যার শিকার হয়েছে। অপহরণকারী আর কেউ নন, তিনি হলেন আবির আলী (১৯), যাঁর পরিবার সোহেল রানার বাসায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বৃহস্পতিবার আবিরকে আটকের পর জানতে পারে, এই তরুণ আলিনাকে হত্যা করে ছোট্ট লাশটিকে কেটে ছয় টুকরা করে সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন। এর পর থেকেই আলিনার বাবা, দাদাসহ স্বজনেরা সাগরপাড়ে ছুটছেন তার শরীরের কোনো একটি টুকরা যদি ভেসে আসে, সে আশায়।

সর্বশেষ