• ২০২২ Jul ০৪, সোমবার, ১৪২৯ আষাঢ় ১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ পূর্বাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২২ Jul ০৪, সোমবার, ১৪২৯ আষাঢ় ১৯

ষাঁড়ের নাম ‘পদ্মা’ আর ‘সেতু’, দাম ৫০ লাখ

  • প্রকাশিত ১২:২১ অপরাহ্ন রবিবার, Jul ০৩, ২০২২
ষাঁড়ের নাম ‘পদ্মা’ আর ‘সেতু’, দাম ৫০ লাখ
ছবি- সংগ্ৰহিত
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নামে নাম রাখার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই; শিশুর নাম রাখা হয়েছে ‘স্বপ্ন’, ‘পদ্মা’ ও ‘সেতু’ও। তবে এবার মানুষের পর এই সেতুর নামে নাম রাখা হলো দুটি গরুর। আর কদিন পরই হতে যাওয়া কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নওগাঁর দুটি ষাঁড় পেয়েছে ‘পদ্মা-সেতু’ নাম।

প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে ওজন এবং দামে আলোচনায় আসে বাহারি নামের গরু। এ বছর পদ্মা ও সেতু নামের কারণে আলোচনায় এসেছে ওই দুই গরু। যার মধ্যে কালচে রঙের পদ্মার ওজন ৩৩ মণ ও লালচে রঙের সেতুর ওজন ৩০ মণ।

ষাঁড় দুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা করে। এরই মধ্যে অনেকেই গরু দুটি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে ‘পদ্মা-সেতু’ কে কিনতে আসছেন ক্রেতারা। করছেন দাম-দরও।

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের দরিয়াপুর গ্রামের মামুনুর রশিদ লিটন গরু দুটির মালিক। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই ষাঁড় গরু দুটিকে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন তিনি।

জানা যায়, পরিবারের ছোট শিশুরা গরু দুটিকে ভূতু আর জিঁজিঁ বলে ডাকত। সম্প্রতি পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী শখ করে গরু দুটির নাম রেখেছেন ‘পদ্মা-সেতু’।

গরুর মালিক মামুনুর রশিদ লিটন বলেন, ‘শখের বসে দুই বছর ৪ মাস আগে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি হাট থেকে ছয় মাস বয়সের কালো রঙের ষাঁড়টি ৬০ হাজার টাকায় এবং লাল রঙের ষাঁড়টি ৬৫ হাজার টাকায় কিনি। এরপর বাড়িতে নিজ সন্তানের মতো করে ষাঁড় দুটিকে যত্ন সহকারে লালন-পালন শুরু করি।

তিনি জানান, কাচা ঘাস, বিচিকলা, গম, ধান, ভুট্টা, মাসকালাই, খেসারি কালাই, মশুর ডাল, ভুসি দিয়ে নিজেই ব্যান্ড তৈরি করে খাওয়ান। মোটাতাজাকরণের কোনো ওষুধ দেয়া হয়নি। প্রতিদিন ‘পদ্মা-সেতুর’ জন্য ১৫০০ টাকা খরচ হয় লিটনের। কেনার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই বছর ৪ মাসে ‘পদ্মা-সেতুর’ পেছনে সব মিলে খরচ হয়েছে প্রায় আট থেকে ৯ লাখ টাকা।

লিটন আরও বলেন, ‘পদ্মার ওজন হবে ১৩০০ কেজি আর সেতুর ওজন হবে ১২০০ কেজি। ষাঁড় দুটির দাম হেঁকেছি ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত গরু দুটির দাম উঠেছে ১৮ লাখ টাকা। মন মতো দাম পেলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করব। আর যদি ভালো দাম না পাই তবে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করব।’

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নওগাঁ জেলায় খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে চার লাখ ৩৩ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এসব পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড়, বলদ, গাভি (বাচ্চা উৎপাদনে অক্ষম) মহিষ ও ছাগল। এর মধ্যে শুধু গরুই ৬৭ হাজার। জেলাজুড়ে প্রায় ২৫ হাজারের মতো খামার রয়েছে।

নওগাঁয় গত বছর দুই লাখ ২৫ হাজার কোরবানি হয়েছিল। এবার জেলায় প্রায় তিন লাখের বেশি কোরবানি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় জেলার খামারগুলোতে পশু বেশি থাকায় এবার অন্য কোনো জায়গা থেকে পশু আনার প্রয়োজন নেই।

সর্বশেষ