• ২০২২ অগাস্ট ১৪, রবিবার, ১৪২৯ শ্রাবণ ৩০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২ পূর্বাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২২ অগাস্ট ১৪, রবিবার, ১৪২৯ শ্রাবণ ৩০

সারাদেশে ৪০ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বঞ্চিত

  • প্রকাশিত ৩:১১ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, Jun ২৮, ২০২২
সারাদেশে ৪০ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বঞ্চিত
ছবি- বেনিউজ২৪.কম
জি.এম জয়, রংপুর ব্যুরো

রংপুর বিভাগের আড়াই হাজারসহ সারাদেশের প্রায় ৪০ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বঞ্চিত হয়ে আছেন। আর এই ৪০ হাজার বৈধ সনদধারী শিক্ষকরা চাকরি না পেয়ে হতাশায় দিনাতিপাত করছেন বলে জানান প্যানেল প্রত্যাশি নিবন্ধিত শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

তাদের দাবি, সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা) শিক্ষকের পদ শূন্য প্রায় ৮৫ হাজার। জাল সনদেও শিক্ষকতা করছেন প্রায় ৬০ হাজার।

নিজেদের প্রাপ্য দাবি আদায়ে নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষকরা দেশের প্রতিটি বিভাগে গণঅনশন শুরু করেছেন। এই গণঅনশনের ২৪তম দিনে মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাজধানীর শাহাবাগে গণঅনশন করছেন বঞ্চিত শিক্ষকরা।

বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষকদের অভিযোগ, এনটিআরসিএ গণবিজ্ঞপ্তির নামে লটারিতে নেমেছে। একজন ৬০/৭০ নম্বর নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও চাকরি পায় না, অন্যদিকে আরেকজন সৌভাগ্যবশত ৪০/৪১ নম্বর নিয়েও চাককরি পেয়ে যাচ্ছে। মহামান্য হাইকোর্ট সাতটি নির্দেশনা দিয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে, চাকরি প্রত্যাশীদের তালিকা করে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দানের কথা। কিন্তু এনটিআরসিএ জাল সনদ ব্যাবসা ও গণবিজ্ঞপ্তির জুয়া খেলেই চলেছে। এনটিআরসিএ-র গণবিজ্ঞপ্তির ফাঁদে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন বেকাররা। এরপরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত নিয়োগ। গত আড়াই বছরে প্রতিষ্ঠানটি বেকারদের কাছ থেকে আদায় করেছে প্রায় ২০৩ কোটি টাকা। অথচ এ সময় ৫৪ হাজার শূন্য পদের বিপরীতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে মাত্র ১৪ হাজার। ৫৪ হাজার পদের ভেতর তারা আরো ২২ হাজার পদে কাগজে কলমে নিয়োগ দেখিয়েছে এমন প্রার্থীদেরকে যারা আগে থেকে চাকরি করছেন। বাকি শূন্য পদগুলোতে ‘উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যায়নি’ বলে জানিয়েছে। অথচ বৈধ চাকরির সনদ নিয়ে একটা চাকরির জন্য আমরা বছরের পর বছর আন্দোলন করছি;  অপেক্ষা করছি। শিক্ষক শূন্যতায় ধুঁকছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

শিক্ষকরা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আশার সমাধি ক্ষেত্র বাংলাদেশ, এটা আমরা মনে করি না। দেশবাসীর সন্তান আমরা। রাষ্ট্রের কাছে বেকার পুনর্বাসনের কথাও বলছি না। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই আমরা আমাদের অধিকারের দাবি করছি। এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে পাওয়া অধিকার। আপনারা জাতির দর্পণ। আমরা সেই জাতির সন্তান। আপনারা আমাদের সহযোদ্ধাও বটে। আপনাদের প্রতি আমাদের দাবি আছে। আপনারা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রাপ্তিতে পাশে দাঁড়ান। আমরা গত ৫ জুন ২০২২ থেকে শাহবাগে গণঅনশন করছি। আমাদের কান্না নিশ্চয়ই আপনাদের হৃদয়কে আর্দ্র করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বঞ্চিত শিক্ষকরা দাবি তুলে ধরে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি প্রধানমন্ত্রী মাত্র নন। আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। আমাদের জাতির জনকের কন্যা। হৃদয় দিয়ে অনুভব করার শক্তি আপনি উত্তরাধিকার সূত্রেই বহন করেন। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আমাদের প্রতি করা অবিচারের প্রতিকার আমরা কোর্টের বারান্দায় গিয়েও পাইনি। আশার শেষ আশ্রয়স্থল আপনি। আমরা জানি, পুরো দেশবাসী আমাদের পাশে আছে, আপনিও আছেন। জননেত্রী হিসেবে আপনার কাছেই আমাদের চাওয়া: ১. বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক শিক্ষক হিসাবে নিবন্ধিত বেকার নিবন্ধনধারীদের এক আবেদনে প্যানেল করে নিয়োগ দিতে হবে। ২. বৈধ সনদধারী চাকরি প্রত্যাশীদের নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধন পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। ৩. চাকরিরতদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত না করে আলাদা বদলির ব্যবস্থা করতে হবে।

প্যানেল প্রত্যাশি নিবন্ধিত শিক্ষক সংগঠন’র রংপুর বিভাগীয় সভাপতি আব্দুলাহ রাজা বলেন, সনদ ধারীর সংখ্যা যতই হোক না কেন প্রকৃত চাকরি প্রত্যাশির সংখ্যা তার তুলনায় খুবই কম। অপরদিকে শিক্ষক শূন্যতায় রয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। তাই দ্রুত নিবন্ধিত শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আবেদন জানাচ্ছি।

সর্বশেষ