• ২০২২ মে ২২, রবিবার, ১৪২৯ জ্যৈষ্ঠ ৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ৯:৫২ পূর্বাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২২ মে ২২, রবিবার, ১৪২৯ জ্যৈষ্ঠ ৮

হঠাৎ অস্থির পেঁয়াজের বাজার

  • প্রকাশিত ১২:১১ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, মে ১২, ২০২২
হঠাৎ অস্থির পেঁয়াজের বাজার
ছবি-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানি বন্ধ থাকার রেশ বেশ ভালোভাবেই পড়েছে দেশের পাইকারি ও খুচরা পেঁয়াজের বাজারে। রাজধানীর পাইকারি বাজারে তিন-চার দিন আগেও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫-২৬ টাকা।

গতকাল বুধবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কমপক্ষে ৩৫ টাকায়, যা আগে ছিল ৩০ টাকা কেজি।

সরকার পেঁয়াজ আমদানির যে অনুমোদন (আইপি) দিয়েছিল তার মেয়াদ ৫ মে শেষ হয়ে গেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত ছয়দিন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। ফলে এপ্রিলের পর আর আমদানির পেঁয়াজ দেশে আসেনি। পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমতি চেয়ে ব্যবসায়ীরা নতুন করে আবেদন করলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না।

সরকার বলছে, কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার আপাতত পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেবে না।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে বুধবার কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে কৃষকরা দাম পায়নি। কৃষক যাতে তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম পায় সে জন্যই আমদানি কিছুটা সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পারলে আগামী বছর পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হবে না। এখন দাম একটু বৃদ্ধির সুবাদে কৃষকরা পেঁয়াজের মূল্য পাচ্ছে।’

এদিকে আমদানি বন্ধের খবরে ইতোমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম চড়তে শুরু করেছে। খোদ সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ।

টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, এক সপ্তাহ আগে দেশে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩০ টাকা। বুধবার তা বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। সে হিসাবে দর বেড়েছে ২৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। আমদানি করা পেঁয়াজও বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, দরবৃদ্ধির হার ২৫ শতাংশ।

খুচরা বিক্রেতা রুবেল বলেন, ‘ঈদের পর থেকে পেঁয়াজের দাম কেজিতে এক-দুই টাকা বাড়ছিল। এখন আরও বাড়ছে। কাল পর্যন্ত যে পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি করেছি তা আজ ৪০ টাকায় বেচলেও লাভ কম থাকছে। আমার পেঁয়াজ আগে কেনা, তাই দাম কম। কিন্তু আজ যেগুলো এনেছি সেগুলো ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বেচতে অইব। তয় দেশি পেঁয়াজের চাইতে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের মান একটু খারাপ। দামও কম, ৩৫-৩৬ টাকা কেজি।’

গতকাল খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা যায়, আড়তগুলোতে এখন খুব বেশি পেঁয়াজ মজুত নেই। দু-একটি আড়তে কোনো পেঁয়াজ নেই। আর যেগুলোতে আছে, সেগুলোতে আগে ২০০-৩০০ বস্তা থাকলেও এখন ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা আছে। আড়তদারেরা বলেন, গত দুই দিনে খাতুনগঞ্জে ভারতীয় কোনো পেঁয়াজ ঢোকেনি। পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের সরবরাহও বাড়েনি। তাই আড়তে এখন পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এ কারণেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। 

খাতুনগঞ্জ সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যে পরিমাণ পেঁয়াজ এখন আড়তগুলোতে আছে। চাহিদা স্বাভাবিক থাকলে এগুলো এক সপ্তাহ পর্যন্ত যাবে। এর মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক না হলে সংকট তৈরি হবে। আগে আমদানি করা পেঁয়াজ এখন কেন বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঈদের পর এখন খাতুনগঞ্জে শ্রমিকসংকট চলছে। তাঁদের পেছনে বেশি খরচ পড়ছে। পরিবহন ভাড়াও বেশি পড়ছে। তাই দাম একটু বাড়ছে। পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমে আসবে।

 


সর্বশেষ