• ২০২২ অক্টোবর ০৭, শুক্রবার, ১৪২৯ আশ্বিন ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ৪:৩৮ অপরাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২২ অক্টোবর ০৭, শুক্রবার, ১৪২৯ আশ্বিন ২২

ইমামকে রাজকীয় বিদায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন

  • প্রকাশিত ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন শনিবার, মে ০৭, ২০২২
ইমামকে রাজকীয় বিদায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন
ছবি-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাফেজ মাওলানা আবু মুসা দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের যশমন্তদুলিয়া গ্রামের মসজিদে। এই ৫৩ বছরের মধ্যে তিনি গ্রামবাসীদের আত্মার সঙ্গে মিশে গেছেন। এখন তিনি বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। এ অবস্থায় তার বিদায় নেওয়ার পালা। সম্প্রতি তিনি অবসর নিয়েছেন দীর্ঘ দিনের এই কর্ম থেকে। তাইতো তাকে বিদায় জানিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওই গ্রামের মুসল্লিরা। তাই তার বিদায়টাও হয়েছে রাজকীয়ভাবে। বিদায় বেলায় মসজিদের ইমামকে সম্মানিত করার এমন উদ্যোগের কারণে প্রশংসায় ভাসছেন এলাকাবাসী।

পাবনার সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা যশমন্তদুলিয়া গ্রামে ঈদের পরদিন বুধবার (০৪ মে) ইমামের সম্মানে এ বিরল বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হাফেজ মাওলানা আবু মুসার বিদায়কে কেন্দ্র করে শতাধিক মোটরসাইকেল, সিএনজি এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শুধু শোভাযাত্রা নয়, তাকে ঘিরে পুরো গ্রামে কয়েক দিন ধরে নানা আয়োজন চলে।

এলাকাবাসী জানান, কিশোর বয়সে সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের বাড়ইপাড়া গ্রামের সন্তান হাফেজ আবু মুসা পার্শ্ববর্তী উপজেলার যশমন্তদুলিয়া গ্রামের মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তখন মসজিদটি একেবারে জরাজীর্ণ ছিল। নামাজ আদায়ের উপযোগী ছিল না। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মসজিদের উন্নতি হতে থাকে। জরাজীর্ণ মসজিদটি বড় ও উন্নত করেছেন। পাশাপাশি তিনি অবহেলিত এই এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন মাদরাসা, ঈদগাহ ও গোরস্থান। এছাড়া আশপাশে আরও বেশ কয়েকটি মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইমামের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট। পরে এলাকার মুরুব্বিসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় ইমামকে ধরে গাড়িতে তুলে দেন এবং শতাধিক মোটরসাইকেল, সিএনজিসহ ঘোড়ার গাড়িতে করে তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন। এ সময় সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। মসজিদের ইমাম ও খতিবের এমন রাজকীয় বিদায়ের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

মসজিদ কমিটির সভাপতি মইনউদ্দিন মাস্টার বলেন, মাওলানা আবু মুসা দীর্ঘ ৫৩ বছর মসজিদে ইমামতি ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশে ছিলেন। গ্রামবাসী তার পরামর্শ নিয়ে কাজকর্ম করতেন। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। তাই তার বিদায় বেলায় সম্মানিত করার চেষ্টা করেছি।

সাঁথিয়ার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনছুর আলম পিনচু বলেন, আমার ইউনিয়নে আজ পর্যন্ত এমন উদ্যোগ কেউ নেয়নি। এখন তো অনেক এলাকায় মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়েও মানুষ বিরোধে জড়াচ্ছে। সেখানে  একজন ইমামকে এভাবে বিদায় দেওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এটা সারা দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ