• ২০২২ Jul ০৫, মঙ্গলবার, ১৪২৯ আষাঢ় ২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২১ পূর্বাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২২ Jul ০৫, মঙ্গলবার, ১৪২৯ আষাঢ় ২১

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে কূপিবাতি

  • প্রকাশিত ৩:৫৬ অপরাহ্ন বুধবার, Jun ২৯, ২০২২
আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে কূপিবাতি
ছবি-বেনিউজ২৪
রংপুর ব্যুরো

কালের পরিক্রমায় ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে কূপিবাতি। একসময় আলোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গ্রামীণ সমাজের প্রতিটি ঘরে ঘরে ব্যবহৃত হতো কূপিবাতি। গ্রামীণ ও শহরের মানুষের একমাত্র ভরসাই ছিল এই কূপিবাতি। কিন্তু বর্তমানে এর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন আর গ্রামীণ-শহরের ঘরে ঘরে,কিংবা দোকানপাটসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে কুপিবাতি ব্যবহৃত হত। হাজার বছরের ঐতিহ্যের বাহন সেই কূপিবাতি আর চোখেই পড়ে না। গ্রামীণ সমাজের হারিয়ে যাওয়া এই সন্ধ্যা প্রদীপ এখন শুধুই স্মৃতি।

অতীতের চিত্র ছিল সারাদিনের কর্মব্যস্ততা সেরে সাঁঝের বেলায় গৃহিনীরা ব্যস্ত হয়ে পড়তো ঘরের আলো জ্বালানো নিয়ে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আধুনিকতার স্পর্শে উন্নত প্রযুক্তিতে আবিষ্কার হয়েছে বিদ্যুৎ এবং বিদ্যুতের বিকল্প বিভিন্ন আলোর বাহন। সন্ধ্যায় লেখাপড়ায়ও আর দেখা যায় কূপিবাতি। পাল্টে গেছে অতীত ঐতিহ্যের এই দৃশ্য।

আধুনিকতার স্পর্শে উন্নত হয়েছে প্রযুক্তি তবে অপর দিকে কূপিকারিগরদের ব্যবসার দুরাবস্থা। তেমনি রংপুর নগরীর পুরনো কূপিবাতি কারিগরদের ব্যবসায় নেমেছে ধস। বাধ্য হয়ে এই ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি। পুরো দোকান ঘুরে ৩৫-৪০ টা কূপিবাতির বেশি   আর চোখেই পড়েনি।

কূপিবাতির ব্যবসার দুরাবস্থা নিয়ে পুরনো ব্যবসায়ী মদন ও বাবু বলেন, বংশগত ভাবেই আমরা কূপিবাতির ব্যবসা করি। আগে বাতির চাহিদা বেশি ছিল তাই সারাদিন- রাত বাতি তৈরি করে দম ফেলার সময় পেতাম না। দিনে ১৫০-২০০ বাতি তৈরির চাহিদা ছিল কিন্তু এখন চার্জার লাইট বের হইছে আর বাতি চলে না। দিনেতো দূরের কথা মাসেও ৫০টা বাতির চাহিদা নাই। তবুও গ্রামাঞ্চলের কিছু জায়গায় বাতি যায়। বর্তমানে ২০০টাকা ডজনে এবং প্রতিপিস বাতি ২০ টাকা খুচরা মূল্যে বিক্রি করা হয়।  ব্যবসার এই অবস্থায় সংসার চলে না। পেটতো মানে না, উপায় না পায়া চোঙা,পোয়া,বেলচা এগুলো তৈরি করি। এভাবেই দিন আনি, খায়া না খায়া চলছে সংসার।

বর্তমানে শহরের প্রতিটি ঘরে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে। যেখানে ছিলোনা কোন বৈদ্যুতিক লাইট, পাখা, এয়ারকন্ডিশানসহ আরো অনেক কিছু। বর্তমানে বিদ্যুতায়নের ফলে এই আরামদায়ক সেবা সম্ভব হয়েছে।

বাঙালি সংস্কৃতি, স্মৃতিময় এই ঐতিহ্যবাহী কূপিবাতি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে আগামী প্রজন্মের জানা ও পরিচিতিতে সহায়ক হবে। জাদুঘরে শোভাপাবে পুরনো দিনের ফেলা আসা কূপিবাতির স্মৃতি। 

সর্বশেষ