• ২০২২ Jul ০৫, মঙ্গলবার, ১৪২৯ আষাঢ় ২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১:২৬ অপরাহ্ন
  • বেটা ভার্সন
Logo
  • ২০২২ Jul ০৫, মঙ্গলবার, ১৪২৯ আষাঢ় ২১

খালাসের জন্য ৩ মাসের অপেক্ষায় বিদ্যুতের সরঞ্জাম ভর্তি ৫০ ট্রাক

  • প্রকাশিত ৬:৪০ পূর্বাহ্ন শুক্রবার, Jun ১৭, ২০২২
খালাসের জন্য ৩ মাসের অপেক্ষায় বিদ্যুতের সরঞ্জাম ভর্তি ৫০ ট্রাক
ছবি- সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জাম নিয়ে ভারত থেকে আসা ৫০ টিরও বেশি ট্রাক নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকেরা। বেনাপোল বন্দরে আধুনিক ক্রেন আর জায়গার অভাবে এসব পণ্য ট্রাক থেকে খালাসের অপেক্ষা দুই মাসের অধিক সময় ধরে আটকা পড়েছে বন্দরে। বন্দরে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা মিলছে না। এতে আমদানি খরচ বাড়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ জানান, মাসের পর মাস দাঁড়িয়ে থেকে ভোগান্তি বাড়ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের যেসব সেক্টরে উন্নয়নের প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে তার মধ্যে বিদ্যুৎ খাত একটি। আর এ বিদ্যুৎ সরঞ্জামের বড় একটি অংশ আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে। তবে বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি আর ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে আমদানিকারকদের। বন্দরে জায়গার অভাবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এসব পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়ালের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকেছে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে। পরে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছে মাসের অধিক সময় ধরে আটকে আছে আধুনিক ক্রেনের অভাবে। ফলে উন্নয়নকাজ যেমন বিঘ্ন ঘটছে তেমনি বাড়ছে আমদানি খরচ। বন্দর বা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে অভিযোগ দিয়েও সমাধান মিলছে না।

বেনাপোল আমদানি রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বেনাপোল বন্দরে বর্তমানে দুই লাখ মেট্রিক টনের বেশি পণ্য রয়েছে। তবে বন্দরে পণ্যের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। বেনাপোল বন্দরে জায়গার অভাবে ভারতের বনগাঁ কালিতলা পার্কিংয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার ট্রাক সিরিয়ালের দাঁড়িয়ে আছে মাসের অধিক সময় ধরে। এসব ট্রাক প্রতি দিনে ২ হাজার রুপি অর্থদণ্ড দিতে হচ্ছে। বিভিন্ন বৈঠকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও গরজ নেই বন্দর কর্তৃপক্ষের। এতে বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। আমদানি খরচ বাড়ায় প্রভাব পড়ছে বাজারে সাধারণ ভোক্তার ওপর।

বেনাপোল ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির চেয়ারম্যান আজিম উদ্দীন গাজি জানান, বেনাপোল বন্দরে যে ক্রেন আছে তা দিয়ে ২৫ টনের বেশি ওজনের পণ্য তোলা, নামানো করা যায় না। আধুনিক ক্রেন ও ফর্ক ক্লিপ এবং নিরাপদে আমদানি পণ্য বন্দরে রাখার জায়গা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করেও লাভ হচ্ছে না। এখন ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে অসহায় হয়ে আছি।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, বন্দরের ক্রেন, ফর্ক ক্লিপের করুন অবস্থা। বেনাপোল বন্দরের অধিকাংশ ক্রেন, ফর্ক ক্লিপ অচল। বছরের বেশির ভাগ সময় ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকে। পণ্য নামাতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষোভ জানিয়েছেন। বন্দর আর ঠিকাদার কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় নিরাপদ বাণিজ্য আজ হুমকির মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ